ভারতে ৩০ শতাংশ সংক্রমণ বাড়িয়েছে তাবলিগ

ভারতে ৩০ শতাংশ সংক্রমণ বাড়িয়েছে তাবলিগ

করোনা পরিস্থিতিতে গণজমায়েত যে কত বড় ধরণের ক্ষতির কারণ হতে পারে সে বিষয়ে মুখ খুলেছে ভারত সরকার।

সেখানে এক পরিসংখ্যনে বলা হয়েছে, দেশটিতে করোনাভাইরাস আক্রান্তের প্রায় ৩০ শতাংশই দিল্লির নিজামুদ্দিনের তাবলিগ জামাতের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে।

গত মার্চে দিল্লির নিজামুদ্দিনের সেই জমায়েতের পর থেকে ভারতে লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।

একাধিক রাজ্যে সংক্রামিতের সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেই তাবলিগ জামাতের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক মিলেছে। এমনকী শনিবার ভারতের উত্তরাখণ্ডে ৯ মাসের শিশু করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তার বাবা দিল্লির ওই জমায়েতে যোগ দিয়েছিলেন।

এদিকে শনিবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়, দেশের মোট করোনা আক্রান্ত ১৪,৩৭৮ জনের মধ্যে ৪,২৯১ জনের তাবলীগ জামাতের যোগ রয়েছে। যা প্রায় ৩০ শতাংশ।

যে রাজ্যগুলিতে করোনার প্রভাব কম, সেখানেও তাবলীগ জামাত যোগে সংক্রমণের খবর মিলেছে। এর মধ্যে আসামের ৩৫ কেসের মধ্যে ৩২ টির ক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠানের যোগ রয়েছে।

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ১২ জনের মধ্যে ১০ জন করোনা আক্রান্তের এই জমায়েতের সাথে সম্পর্ক রয়েছে।

জানাজায় লাখো মানুষের ঢল, ৬ গ্রামের সবাই ঘরবন্দী

নারায়ণগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে শহরের চাষাঢ়ায় এবং ত্রাণের দাবিতে ফতুল্লায় বিক্ষোভ করেছে কয়েকশ’ শ্রমজীবী মানুষ।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরের দিকে ত্রাণের দাবিতে ফতুল্লার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে এবং বকেয়া বেতনের দাবিতে একই দিন বিকেলে চাষাঢ়ায় বিক্ষোভ করেন তারা।

জানা গেছে, চলমান পরিস্থিতিতে কর্মহীন বেকার হয়ে পড়া পরিবারগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য সঙ্কট। এমন পরিস্থিতিতে কেউ পেয়েছে কেউ পায়নি সরকার প্রেরিত ত্রাণ সামগ্রী। ফলে, ত্রাণ বঞ্চিত, খাদ্য সঙ্কটে থাকা ফতুল্লার লাল খাঁ, কুতুবপুর, তক্কারমাঠ, রামারবাগ এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ খান সাহেব ওসমান আলী ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনের রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করে। তারা সড়কে উপর এক ঘণ্টার মত অবস্থান করলে এই পথের সকল প্রকার যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে লিংক রোডে বিক্ষোভের খবর পেয়ে ছুটে আসে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। পরে বিক্ষুব্ধদেরকে ত্রাণের আশ্বাস দিয়ে বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন। এরপর এই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, কিছু নিম্ন আয়ের মানুষ ত্রাণের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করেছিল। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের সাথে কথা বলে, তাদের ত্রাণের আশ্বাস দেয়া হলে অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষুব্ধরা।

অপরদিকে বিকেলের দিকে ফতুল্লার গাবতলী টাগারপাড় ডিডিএল ফ্যাশন নামে একটি গার্মেন্টে কয়েকশ’ শ্রমিক চাষাঢ়া বঙ্গবন্ধু সড়কে এসে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তারা রাস্তার উপর বসে পড়ে এবং যার চলাচলে বাধা প্রদান করে।

শ্রমিকদের দাবি, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বকেয়া বেতন এখনও দিচ্ছে না গার্মেন্টস মালিকপক্ষ। এরমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাস শেষে গার্মেন্টসটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিন মাসের বেতন না পেয়ে বাসা ভাড়া দিতে না পারছেন না বলে বাড়িওয়ালাও ঘরে ঢুকতে দিচ্ছে না। মুদি দোকানের মাসিক বিল দিতে না পারায় তাদের গালাগাল শুনতে হচ্ছে। পেটে টান লাগলে লকডাউন কারফিউ কিছুই নয়।

অসহায় শ্রমিকরা বলেন, পেট মানে না আবার কিসের লকডাউন। বাধ্য হইয়া আমরা রাস্তায় নামছি। দরকার হইলে রাস্তায় জীবন দিয়ে দিব।

এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে বকেয়া বেতনের আশ্বাস প্রদান করলে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নিয়ে যার যার মত করে ফিরে গেছেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে শ্রমিকদের সাথে কথা বলে তাদেরকে বুঝিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মসজিদে না গিয়ে ঘরে বসে আল্লাহকে ডাকেন, আল্লাহ নিশ্চয় শুনবেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেখানে কাবা শরীফে কারফিউ দেয়া হয়েছে, সেখানে বলব, মসজিদে না গিয়ে ঘরে বসে আল্লাহকে ডাকেন; আল্লাহ নিশ্চয় শুনবেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষার যে নির্দেশনা, সবাই দয়া করে সেটা মেনে চলবেন। তাহলে কেউ করোনা ঝুঁকিতে পড়বেন না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার সব নির্দেশনা মেনে চলবেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এসব কথা বলেন সংসদ নেতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতি এখনও বাংলাদেশ যথেষ্ট ভালো। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে, সেখানে আমরা ভালো আছি। আমরা বার বার ঘরে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। আসলে মানুষ কেন যেন বেশি সাহসী হয়ে গেছে। অনেকে মানতেই চায় না। আমি সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ করছি।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে এ রকম একটা ঝড় উঠবে তা কল্পনার অতীত ছিল। আসলে ভাইরাসসহ সংক্রামক রোগের কোনো পূর্বের অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে গাইড লাইন অনুসরণ করে আমরা স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিজস্ব কিছু চিন্তাভাবনা থেকে আমরা কতগুলো পদক্ষেপ সঙ্গে সঙ্গে নিতে থাকি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিই। প্রত্যেকের যাতায়াত আমরা সীমিত করে দিই। আমরা বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর বন্ধ করে দিই। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে এমন সব জায়গায় আমরা বিভিন্ন বিধি নিষেধ আরোপ করি।

শেখ হাসিনা বলেন, এ করোনা নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে। অনেক চিন্তা হচ্ছে। অনেকেই বলছে শীত হলে বেশি হয়, গরম হলে কমে। আবার বলে গরম হলেও থাকবে। এর স্থায়িত্ব কী, অদ্ভুত একটা অবস্থা সারাবিশ্বে। কত শক্তিশালী দেশ, কত তাদের শক্তিশালী অস্ত্র। কোনো কিছুই কাজে লাগছে না। একটা ভাইরাস যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু তার কারণে সারাবিশ্ব স্থবির। সারাবিশ্বের মানুষ ঘরেবন্দি। এ রকম অদ্ভুত পরিস্থিতি বোধ হয় আর কখনো হয়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে ব্যারিস্টার সুমন

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা জাহিদ মালেক এর পদত্যাগ দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমাজসেবক ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ব্যারিস্টার সুমনের নিজস্ব ফেসবুক পেজে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, মাননীয় নেত্রী- আপনি জানেন যে গতকালকে আপনার সামনে স্বাস্থ্য সচিব এবং মহাপরিচালক দুইজন দুই রকম কথা বলেছেন। মাননীয় নেত্রী- আমি বারবার বলে আসছি; বর্তমানে যতগুলা মন্ত্রণালয় সবচেয়ে ব্যর্থ হয়েছে এর মধ্যে প্রথম মন্ত্রণালয় হলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

কেন হবে না মাননীয় নেত্রী, এমন একজন মন্ত্রী এটার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসবে আছেন যিনি সর্বোচ্চ ব্যার্থ। আপনি মনে হয় দেখেছেন যে তিনি ৩০ জন লোক পিছনে নিয়ে করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে আমাদেরকে সচেতন করতে গিয়েছিলেন। আপনি জানেন যে, তাকে করোনাভাইরাস প্রতিরক্ষায় ন্যাশনাল কমিটির প্রধান করা হয়েছে এবং তিনি জনসমক্ষে সাংবাদিকদের সামনে বলেছেন উনি ন্যাশনাল কমিটির সভাপতি ঠিকই কিন্তু তিনি ‘জানেন না কোথায় কি হচ্ছে’।

এধরনের কথা বলার পর মিনিস্ট্রিয়াল রেস্পন্সিবিলিটি অনুসারে ওনার পদত্যাগ করার কথা ছিল। মাননীয় নেত্রী আপনি জানেন যে, উনি সেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী যনি গতবছর যখন ঢাকায় ৯০ হাজার লোক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল তখন তিনি থাইল্যান্ডের কোথাযও পরিবার নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। উদাহরণ টেনে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আমি শুধু একটা কথা বলি নিউজিল্যান্ডে লকডাউন থাকা অবস্থায় একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সী-বিচে তাঁর বাচ্চাদের নিয়ে গিয়েছিলেন যে কারণে তাকে পদত্যাগ পত্র দিতে হয়েছিলো।

পরবর্তিতে তাকে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেয়া হয়েছে। মাননীয় নেত্রী আমি একটা কথা বলতে চাই, আপনি হয়তো ফেসবুকে দেখেছেন- মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলে এবং মাননীয় স্বাস্থ্য সচিব ও মহাপরিচালক মিলে একটা সিন্ডিকেটের কথা বলা হয়েছে। যারা ভয়ানক দুর্নীতির সাথে জড়িত। N-90 যে মাস্কের কথা বলা হয় এবং যে মাস্ক আমদানি করতে না পারার কারণে ডাক্তাররা হুমকির সম্মুখীন এ বিষয়ে এই সিন্ডিকেটের প্রতা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ব্যারিস্টার সুমন বলেন, মাননীয় নেত্রী কোন কথা বলবো আপনার কাছে।

অনেকগুলা কথা আছে। তবে একটা কথা বলতে চাই আপনি কখন বুঝবেন সমাজ নষ্ট হয়ে গেছে। হযরত আলী রা. এর উদ্বৃতি টেনে সুমন বলেন, যখন দেখবেন বিভিন্ন মূর্খরা মন্ত্রী হয়ে গেছে এবং ধনীরা কৃপন হয়ে গেছে। তখন বুঝবেন আমরা কিয়ামতের দিকে রওনা দিচ্ছি। মাননীয় নেত্রী আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাই, আপনি যেভাবে কষ্ট করে যাচ্ছেন একজন বা দু-একটা মন্ত্রণালয়ের জন্য ব্যার্থতার জন্য আপনাকে এত ভালো ভালো কাজ গুলা নষ্ট হয়ে যেতে পারে না।

মাননীয় মন্ত্রী আমি বলছি না যে তাদেরকে বদলে অন্য আরেকজনকে দিলেই যে তাড়াতাড়ি দিনের ভিতরে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এমন একটি ক্রাইসিস মুহূর্তে এমন একজন ব্যর্থ লোককে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাখার কোন সুযোগ নেই। ব্যারিস্টার সুমন বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি খোঁজ নিয়ে দেখুন এবং মানুষকে জিজ্ঞেস করেন যে, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যাপারে কোন ধরনের কনফিডেন্স আছে কিনা। দেখবেন বেশিরভাগ লোকই তার ব্যাপারে কোনো কনফিডেন্স প্রকাশ করবে না।

তাই আজকে আমরা সুস্থ আছি এবং করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ থেকে যারা বিদায় নিবে তারা এমন একজন মন্ত্রী দেখতে চায় না। আপনার চাইলে আপনি পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন। ব্যারিস্টার সুমন বলেন, প্রয়োজন হলে তাকে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দিয়ে দিন। যে মন্ত্রী ঠিকমতো ক্যামেরার সামনে হিসেবে বলতে পারে না যে এই পর্যন্ত কতজন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তাকে কেন মন্ত্রনালয়ে রাখতে হবে।

একই সাথে তিনি বলেন যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঠিকমত পিপিই বলতে পারেনা বরং বলে পিপিপি এমন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অবশ্যই স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় থাকা উচিত না। তিনি বলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রীর মাথায় পিপিই ‘পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট’ এই বিষয়টা নেই বরং তার মাথার মধ্যে আছে বিজনেস টার্মস পিপিপি অর্থাৎ ‘প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপ’। অর্থাৎ তার মাথার মধ্যে ব্যবসার চিন্তাই শুধুমাত্র রয়েছে! এমন একজন লোক অবশ্যই স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারে না।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *