হতদরিদ্রের কার্ডে আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের ১১ জনের নাম!

হতদরিদ্রের কার্ডে আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের ১১ জনের নাম!

নেতার বাড়ির আশপাশে খেয়ে না খেয়ে আছেন অনেক হতদরিদ্ররা। এ সময়ে তাঁরাও পাচ্ছেন না কোনো ধরনের সহায়তা। তীর্তের কাকের মতো চেয়ে আছেন। কিন্তু এর মধ্যেই এক নেতার বাড়ির নিজ পরিবারের ১১ জন হতদরিদ্রদের তালিকায় তালিকাভুক্ত হয়ে পাচ্ছেন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের ৩০ কেজি করে চাল। তাঁদের মধ্যে  রয়েছে নেতার দুই স্ত্রী,শ্বশুড়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী ছেলে ও ভাই। এ ধরনের ঘটনায় এলাকায় চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। এ ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের গাঙাইল ইউনিয়নের তালজাঙ্গা গ্রামে।

ওই নেতা হচ্ছেন উপজেলার গাঙাইল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.সাইদুল ইসলাম (৪৫)। তিনি তালজাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হতদরিদ্রদের তালিকা করার সময় দলীয় লোক হিসেবে ওই নেতা দায়িত্বে ছিলেন। তাই তিনি তাঁর পরিবারের নাম দিতে ভুল করেননি। তাঁর পরিবারের ৯ জনের তালিকায় রয়েছেন ক্রমিক ১১০৭ এর কার্ডের মালিক নেতা সাইদুল ইসলাম নিজে, ১০৮২ ক্রমিকের কার্ডটি তাঁর প্রথম স্ত্রী পারভিন আক্তারের ১১৩১ নাম্বার কার্ডটি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সাজেদা আক্তারের। অন্যদিকে ১০৮৩ ক্রমিকের কার্ডটি ওই নেতার পুত্র  মো.জাকারিয়ার। তিনি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরীকাম নৈশপ্রহরী। ১০৮৪ ক্রমিকের কার্ডটি নেতার শ্বশুর আবদুল কাদিরের নামে। তিনি রয়েছেন বয়স্ক ভাতার তালিকাতেও। ১০৭৮ ক্রমিকের কার্ডের মালিক নেতার চাচাতো ভাই মৃত আব্দুল মান্নানের স্ত্রী সালেহা বেগমের নামে। তিনি উত্তোলন করেন সরকারি কর্মচারি স্বামীর অবসর ভাতাও। ১০৯৫ ক্রমিকের কার্ডটি নেতার ভাই বাবুল মিয়ার নামে, ১১০২ কার্ডটি নেতার চাচাতো ভাই মো. বিল্লাল হোসেনের ও ১১৩৫ নাম্বার কার্ডটি নেতা সাইদুলের আরেক চাচাতো ভাই আব্দুল কাইয়ুমের নামে। এ ছাড়া নেতার ভাতিজা ও ভাইয়ের স্ত্রীর নামে উপকারভোগী কার্ড রয়েছে বলে গ্রামের লোকজন সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য নান্দাইলের তালজাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত নেতার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয় শাইলধরা বাজারে গিয়ে দলীয় কার্যালয়ে তাঁকে পাওয়া যায়। পরে কথা বললে নেতা সাইদুল ইসলাম ছেলে ও নিজের দুই স্ত্রী ছাড়া অন্যদের পরিবারের সদস্য নয় অস্বীকার করে বলেন, আমিও তো গরিব। জমিজমা কিছুই নেই। যা আছে তা দিয়ে কোনো মতে চলি। তা ছাড়া অন্যরাও আমার মতই। তাই সুযোগ হাত ছাড়া করিনি।

জানা গেছে, ওই ইউনিয়নে চারজন ডিলারের মাধ্যমে ২ হাজার ২৯৯ জন হতদরিদ্র ১০ টাকা কেজি দরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকাভুক্ত রয়েছেন। চারটি বিভিন্ন স্থানে চারজন ডিলার তাঁদের নির্ধারিত দোকান থেকে চাল বিক্রি করে থাকেন। তার মধ্যে ইকবাল হোসেন নামে ডিলার স্থানীয় বাংলা বাজারের একটি দোকান থেকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করেন। তাঁর তালিকায় রয়েছে মোট ৫৫০ জন হতদরিদ্র। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই তালিকায় রয়েছেন অনেক বিত্তশালী লোক ছাড়াও স্থানীয় আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও তাঁদের পরিবার। ওইসব তালিকা করেছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও নেতারা।

এ বিষয়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি পরিচালনা কমিটির সভাপতি নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহিম সুজন বলেন,এ ধরনের আরও অভিযোগ ওঠায় এ মাসেই যাচাই-বাচাই করে নতুন তালিকা করা হবে।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *